ঢাকা , রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ , ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটি টাকার নৌকা বিক্রি !

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ০২:৪৯:২৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ০২:৪৯:২৯ অপরাহ্ন
কোটি টাকার নৌকা বিক্রি ! ছবি : সংগৃহীত
‘শুকনায় পাও, বর্ষায় নাও’—হাওরাঞ্চলের বহুল প্রচলিত এ প্রবাদেই যেন ধরা পড়ে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তবতা। শুষ্ক মৌসুমে যে পথে হেঁটে চলাচল করা যায়, বর্ষায় সেখানে দিগন্তজোড়া পানি।

তখন নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। উজানের ঢলে হাওর এখন পানিতে টইটম্বুর।  সুনামগঞ্জের মধ্যনগর বাজারের শতবর্ষী নৌকার হাট। স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিত ‘নাও মহাল’ নামে।

প্রতি হাটবারে এ বাজারে কোটি টাকার নৌকা বিক্রি হয়। প্রতি শনিবার বসে এ নৌকার হাট। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। ভরা বর্ষায় দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনায় জমজমাট হয়ে ওঠে হাট।

প্রতি হাটবারে এখানে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি নৌকা বিক্রি হয়। হাটে পাওয়া যায় নানা ধরনের নৌকা। খিলুয়া, চডা নাও, খুশি, সরঙ্গা, চাচতলী ও বারকি নামের নানা নৌকা রয়েছে। হাতে বাওয়া নৌকার পাশাপাশি বিক্রি হয় ইঞ্জিনচালিত নৌকাও। আকারভেদে এসব নৌকার দামও ভিন্ন।

ছোট নৌকা ৩ থেকে ১০ হাজার, মাঝারি ১২ থেকে ২০ হাজার এবং বড় নৌকা ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এ হাটের অধিকাংশ নৌকা আসে পাশের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের উত্তর নোয়াগাঁও গ্রাম থেকে। বর্ষা এলেই ওই গ্রামের কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। পুরো গ্রামজুড়েই চলে নৌকা তৈরির কাজ। এ ছাড়া ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও নেত্রকোনার কলমাকান্দা থেকেও ক্রেতা-বিক্রেতারা আসেন নাও মহালে।

স্থানীয় প্রবীণদের কাছ থেকে জানা যায়, ১৯২০ কিংবা ১৯২২ সালের দিকে গৌরীপুরের জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় মধ্যনগর বাজারে প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে একটি পুকুর খনন করান। এলাকার মানুষের পানীয় জলের সংকট দূর করতেই পুকুরটি খনন করা হয়েছিল। পরে পুকুরের মাটি ফেলে যে স্থানে বাজার গড়ে ওঠে, সেখানেই শুরু হয় নৌকার হাট। সেই হিসাবে শতবর্ষ পেরিয়েও বর্ষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে আছে এই হাট।

নৌকা কিনতে আসা নূরুল আমিন বলেন, ‘আমি প্রতিবছর এখান থেকে নৌকা কিনি। এবার মাছ ধরার জন্য সাড়ে সাত হাজার টাকায় একটি নৌকা কিনেছি। দামও নাগালের মধ্যে রয়েছে।’

তাহিরপুরের উত্তর নোয়াগাঁও গ্রামের কয়েকজন নৌকা কারিগর বলেন, ‘বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বছরের এ সময়ে নৌকার অর্ডার সবচেয়ে বেশি আসে। তাদের তৈরি অধিকাংশ নৌকাই মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত হয়।’

লেখক ও গবেষক অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, ‘মধ্যনগর বাজারের নৌকার হাটটি এ অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্য। হাওরবাসীর প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট-বড় প্রায় সব ধরনের নৌকাই এখানে পাওয়া যায়। বর্ষা এলেই এই হাট নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।’

হাওরের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা নাও মহাল এখন শুধু নৌকা কেনাবেচার স্থান নয়, এটি এ অঞ্চলের শতবর্ষী লোকজ ঐতিহ্যেরও স্মারক। বর্ষা এলেই কাচারিঘাটে সারি সারি নৌকা, ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক আর মানুষের কোলাহলে যেন জেগে ওঠে পুরনো সেই নাও মহাল।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন


 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ